যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান যৌথ সামরিক মহড়া অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। উত্তর কোরিয়ার প্রতি এই মহড়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘শত্রুতাপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা প্রশমন ও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উলচি ফ্রিডম শিল্ড (ইউএফএস) নামের এই সামরিক মহড়াটি ১৭ আগস্ট শুরু হয়ে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহড়াটি আগামী ২১ আগস্ট শুক্রবার শেষ করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে জানান, এই মহড়াগুলো কেবল ব্যয়বহুলই নয়, বরং এটি উত্তর কোরিয়ার প্রতি এক ধরনের অনুপযুক্ত ও শত্রুতাপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে মহড়ার পরিধি ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া, মার্কিন সুরক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া যথেষ্ট অর্থ পরিশোধ করছে না বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন জানান, ট্রাম্পের এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিউলকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহড়ার পরিধি কমানো হলেও মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্যগুলো অক্ষুণ্ণ থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্তে উত্তর কোরিয়ার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি; তারা উল্টো সামরিক হুমকি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।