যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার ১৮ মাস পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের কর্মসূচি হাতে নিলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। কানাডাকে প্রথমদিকেই এই শুল্কের আওতায় আনা হয়েছিল এবং বর্তমানে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এই বাণিজ্য যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অটোমোবাইল ও ইস্পাত শিল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে সেখানকার কারখানাগুলোতে ব্যাপক ছাঁটাই ও উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই প্রদেশে কয়েক হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। এছাড়া কুইবেক প্রদেশের ধাতু রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্য কানাডার পাল্টা শুল্কের কবলে পড়েছে, তার মধ্যে ওহাইও, ইলিনয় ও পেনসিলভানিয়া অন্যতম। বিশেষ করে ওহাইওর ইস্পাত শিল্প এবং ইলিনয়ের কৃষি সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই শুল্কের সরাসরি প্রভাব অনুভব করছে।
বাণিজ্য যুদ্ধের এই অস্থিরতায় কানাডা তার রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। অনেক কানাডিয়ান ব্যবসায়ীরা এখন ইউরোপের বাজারের দিকে ঝুঁকছেন। তবুও টরন্টো, লন্ডন ও কিচেনারের মতো শিল্প অঞ্চলগুলো এখনও ব্যাপকভাবে মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের সংকট কাটছে না।
কর্মসংস্থানের ওপরও এই বাণিজ্য যুদ্ধের বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যাংক অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পরবর্তী এক বছরে কানাডায় প্রায় ৫৫ হাজার ম্যানুফ্যাকচারিং চাকরি বিলুপ্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ট্রেভর টম্বের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থায়ী হলে কানাডায় আরও ৯০ হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারেন। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির কারণে মার্কিন পরিবারগুলোকে বছরে গড়ে ৮৪০ ডলার বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।