যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে শিশুদের ব্যবহারের জন্য তৈরি একটি স্মার্টওয়াচ হ্যাক করে এর মাধ্যমে এক সাংবাদিকের ওপর নজরদারি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। গ্রিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ভ্যাঞ্জেলিস স্টাইকাস এই পরীক্ষাটি পরিচালনা করেন। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শিশুদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত গ্যাজেটগুলোর সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের চরম ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।
নিউ ইয়র্কের অফিসে যাওয়ার সময় ওই সাংবাদিক গোলাপি ও ল্যাভেন্ডার রঙের প্লাস্টিকের একটি স্মার্টওয়াচ পরেছিলেন। স্টাইকাস ওই ওয়াচের জিপিএস ফিচার এবং ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগিয়ে সাংবাদিকের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। অফিসে পৌঁছানোর পর হ্যাকাররা ঘড়ির ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ঘড়ির মালিক বিন্দুমাত্র টের না পেলেও, হ্যাকাররা গোপনে তার ছবি তোলে এবং সহকর্মীদের সাথে কথোপকথন আড়ি পেতে শোনে।
তদন্তে দেখা গেছে, চীনের শেনজেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়িকিংতেং ইলেকট্রনিকসের তৈরি এই ঘড়িটি মূলত এসইট্র্যাকার (SETracker) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একই প্ল্যাটফর্ম বা সমজাতীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের বাজারে আরও ডজনখানেক ব্র্যান্ডের জিপিএস ট্র্যাকার ও স্মার্টওয়াচ বিক্রি হচ্ছে। হ্যাকারদের দাবি, তিনটি প্রধান সাপ্লাই চেইন থেকে আসা কোটি কোটি ডিভাইসে মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে।
এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা যেকোনো শিশুর অবস্থান追踪 করা, তথ্য বিকৃত করা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর পরিবর্তন করা এবং আড়ি পাতাসহ ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। গবেষকরা আরও জানান, একই ত্রুটি ব্যবহার করে জিপিএস সুবিধাযুক্ত গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও হ্যাক করা সম্ভব, যার মাধ্যমে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াও বিচিত্র নয়।
ব্ল্যাক হ্যাট সাইবার সিকিউরিটি সম্মেলনে গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা গত কয়েক মাস ধরে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে এসব ত্রুটির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গবেষকদের মতে, কয়েক কোটি শিশু এই ডিজিটাল নজরদারির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং নিরাপত্তার এই ঘাটতি একটি বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।