বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে রবিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৮০ হাজার কওমি মাদ্রাসা জাকাত আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিক উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য দেন। দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের ভূমিকা ও সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
জাকাত ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সংস্কার
অর্থমন্ত্রী জানান, ১৯৮২ সাল থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় সরকারি জাকাত ফান্ড পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৩ সালে নতুন জাকাত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি আলেমদের পরামর্শক্রমে জাকাত ব্যবস্থা আধুনিকায়নে কাজ করছে। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জাকাত বোর্ড গঠন ও কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জাকাত সংগ্রহ সহজীকরণ
জাকাত সংগ্রহ সহজ করার লক্ষ্যে এনবিআরের সহযোগিতায় কর রেয়াতের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। জাকাত প্রদানকারীরা তাদের রসিদ ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে যুক্ত করে এই সুবিধা নিতে পারেন। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের ভূমিকা
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দেশের মাদ্রাসা, মক্তব, এতিমখানা এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা জাকাত সংগ্রহ করে লাখ লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। আলেম সমাজ এবং মাদ্রাসাগুলোকে জাকাত ব্যবস্থার একটি সমন্বিত শক্তি হিসেবে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় ঘটলে দেশের জাকাত ব্যবস্থা আরও আস্থাভাজন ও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।