বাংলাদেশের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলে পাহাড় কাটা, বনভূমি বেদখল এবং বৃক্ষনিধন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অঞ্চলের কোদালা, নারিশ্চা, চিরিঙ্গা এবং নিশ্চিন্তপুর বিটের বনাঞ্চলে অপরাধী চক্রের আগ্রাসন প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বন ও পাহাড় উদ্ধারে অভিযানে গিয়ে বনকর্মীরা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও রাঙ্গুনিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর চলা এই নিদারুণ বর্বরতার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের শাসনামলে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বনভূমি দখল ও সম্পদ লুণ্ঠনে লিপ্ত ছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও এই অশুভ চর্চা থামেনি। কেবল দখলদারদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তিত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দলের পরিচয়ে এখন এই দখলদারি চলছে।
সীমিত জনবল, অপর্যাপ্ত অস্ত্র এবং নিরাপত্তার অভাবে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। অস্ত্রধারী অপরাধীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে। প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় কেবল সাধারণ ডায়েরি করার মাধ্যমে এই সশস্ত্র চক্রকে দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। বন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামী এক দশকের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার প্রাকৃতিক বনাঞ্চল মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।
এই সংকট নিরসনে সরকারকে অবিলম্বে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে বন রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। রাজনীতি ও দখলদারিত্বের থাবায় পরিবেশ ধ্বংসের যে খেসারত পুরো সমাজকে দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্টদের দ্রুত অনুধাবন করতে হবে।