যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির জ্যাকসনে নিরাপদ পানীয় জল পাওয়া নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নয় বলে রায় দিয়েছেন দেশটির পঞ্চম সার্কিট কোর্ট অব আপিলস। বিচারক কার্ট এঙ্গেলহার্ড মামলার রায়ে উল্লেখ করেছেন, সরকারি সব ভুল বা গাফিলতির প্রতিকার সংবিধানে নেই। এই রায়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকারের দায়বদ্ধতা ও সংবিধানের সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মামলার পটভূমি
২০২২ সালে জ্যাকসন শহরের বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, শহর কর্তৃপক্ষ জেনেশুনেই সীসা দূষিত পানি পান করতে বাধ্য করেছে এবং পানি নিয়ে নাগরিকদের সঠিক তথ্য দেয়নি। বাদীপক্ষের দাবি ছিল, এটি তাদের শারীরিক অখণ্ডতার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। তবে ট্রাম্প কর্তৃক নিযুক্ত বিচারক কার্ট এঙ্গেলহার্ড এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বিশুদ্ধ পানি বা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়ার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই।
জ্যাকসনের পানি সংকট
জ্যাকসনের ৮০ শতাংশেরও বেশি অধিবাসী কৃষ্ণাঙ্গ এবং শহরটিতে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। ২০১৫ সালে মিসিসিপি স্বাস্থ্য বিভাগ শহরের পানি সরবরাহে উচ্চমাত্রার সীসার উপস্থিতি শনাক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষ ছয় মাস বিষয়টি গোপন রেখেছিল। ২০২০ সালে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) পরীক্ষায় পাইপলাইনে ছিদ্র, ক্ষয় এবং সীসার উপস্থিতির মতো গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে থাকা প্রিসিলা স্টার্লিংয়ের সন্তানদের শরীরে সীসা বিষক্রিয়া পাওয়া গেছে, যা স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
অন্যান্য দেশের প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রের এই রায়ের বিপরীতে বিশ্বের অন্তত এক ডজন দেশে নিরাপদ পানীয় জলকে সংবিধানের মাধ্যমে সুরক্ষিত অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের মতো দেশে এটি সাংবিধানিক অধিকার। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সংবিধানেও বিশুদ্ধ পানি ও পরিবেশ পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই রায়ের পর পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের ক্লিন ওয়াটার অ্যাক্ট বা বিশুদ্ধ পানি আইনকে আরও দুর্বল করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। এর ফলে ভবিষ্যতে পানি দূষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের খরচ সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।