যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টম জেমস মানুষের মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে এক নতুন তত্ত্ব সামনে এনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আমাদের মস্তিষ্ক আসলে প্রচলিত ধারণার মতো কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় না। মূলত ইন্দ্রিয়, শরীরের নড়াচড়া এবং পরিবেশের সাথে মস্তিষ্কের ধারাবাহিক মিথস্ক্রিয়াই আমাদের আচরণের জন্ম দেয়, যাকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে ভুল করি।
প্রচলিত ধারণা ও বৈজ্ঞানিক মতবাদ
কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে আসছেন, মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায়। যেখানে প্রথমে কোনো বিষয় অনুভব করা হয়, পরে তা নিয়ে চিন্তা করা হয় এবং শেষে কাজ করা হয়। এই রৈখিক মডেলকে অনেক সময় ‘স্যান্ডউইচ মডেল’ বলা হয়। অধ্যাপক জেমস এই মতের বিরোধিতা করে বলেছেন, মস্তিষ্কের সেন্সরি বা ইন্দ্রিয়গত এবং মোটর বা চলনগত কার্যপদ্ধতি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা গেলেও, মাঝখানের কোনো ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’ প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধান্ত কি শুধুই একটি ধারণা?
অধ্যাপক জেমস মনে করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনো শারীরিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বিমূর্ত বর্ণনা মাত্র। একটি রোবটের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, অনেক রোবট কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পথ চলতে পারে, যা দেখে মনে হতে পারে সে সচেতন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একইভাবে মানুষের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।
কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ
এই গবেষণার ফলাফল নিউরোসায়েন্সের প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করছে। গবেষকদের মতে, যদি মস্তিষ্কে কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক না থাকে, তবে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বোঝার জন্য আরও জটিল ও সমসাময়িক গবেষণার প্রয়োজন। ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ কগনিটিভ নিউরোসায়েন্স’ এ প্রকাশিত হয়েছে।