ঢাকাWednesday , 26 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি: সামরিক শিল্পের নতুন দিগন্ত


August 26, 2026 4:45 pm
Link Copied!

লেবাননের বৈরুতে বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশগুলোর প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে। এই চুক্তির ফলে আঙ্কারা থেকে রিয়াদে অস্ত্র সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি তিনটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেমের আওতায় আসবে।

৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ কেবল অস্ত্র রপ্তানির কোনো সাধারণ চুক্তি নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আলি বাকির জানান, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তির স্থানান্তর, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে দেশগুলো ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্কের বদলে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা-শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।

চুক্তি অনুযায়ী, এই তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই আক্রমণ বলে গণ্য হবে, যা অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো কাজ করবে। বিশ্লেষক সেরহাত সুহা চুবুকচুগলুর মতে, সৌদি আরব তাদের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চায়। এ ক্ষেত্রে তুরস্ক তাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে, কারণ তুরস্কের অস্ত্রশস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় সেখানে রাজনৈতিক শর্ত কিছুটা কম থাকে।

লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলবার্ট ভিদাল জানান, তুরস্কের কোম্পানিগুলোর জন্য সৌদি বাজারের দরজা আরও উন্মুক্ত হবে। এছাড়া পাকিস্তানের বিশাল মহাকাশ গবেষণা ও উৎপাদন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এই ত্রিপক্ষীয় প্রকল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় তুর্কি প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN) সৌদি আরবের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এর আগে তুর্কি এরোস্পেস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা কান যুদ্ধবিমান রপ্তানির জন্য একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ দেশগুলোর সামরিক স্বনির্ভরতা ও পারস্পরিক কৌশলগত সক্ষমতা আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।