যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নতুন সোলার সিস্টেমের প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আদ্রিয়ান কিংসলে-হিউজ সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি ব্যবহারের কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে কেবল প্লাগ-ইন সোলার সিস্টেমের চেয়ে হাইব্রিড সিস্টেম বেশি লাভজনক, কারণ এতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চ্যালেঞ্জ
বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাহিদার সঙ্গে সোলার শক্তির উৎপাদনের সময়ের একটি অসামঞ্জস্য রয়েছে। সোলার শক্তি সাধারণত দুপুরে সর্বোচ্চ উৎপাদিত হয়, কিন্তু অধিকাংশ পরিবারে সকাল ও সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ কারণে সোলার থেকে পাওয়া শক্তি সরাসরি ব্যবহারের চেয়ে তা ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা বেশি জরুরি।
টাইম-শিফটিং ও ব্যাটারির ভূমিকা
আদ্রিয়ান কিংসলে-হিউজ জানান, ব্যাটারি ব্যবহারের মাধ্যমে দিনের বেলা উৎপাদিত বা অফ-পিক আওয়ারের সস্তা বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে তা বেশি দামের সময় ব্যবহার করা যায়। একে বলা হয় টাইম-শিফটিং। তবে ব্যাটারি চার্জ ও ডিসচার্জের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ শতাংশ শক্তি অপচয় হয়। তাই সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ট্যারিফ প্ল্যান নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগ ও প্রত্যাশিত সুবিধা
বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎ মূল্যের হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছোট বা মাঝারি সোলার ব্যাটারি সিস্টেম বিনিয়োগের খরচ তুলে আনতে প্রায় পাঁচ বছর সময় নিতে পারে। এর পরে এটি দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয় নিশ্চিত করে। তবে এই সিস্টেম কেনার আগে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরণ এবং স্থানীয় ট্যারিফ প্ল্যান ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এছাড়া সোলার ও ব্যাটারি সিস্টেম কেবল অর্থের সাশ্রয় নয়, বরং শক্তির স্বাধীনতা এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যাকআপ পাওয়ারের উৎস হিসেবেও ভূমিকা রাখে। এটি বর্তমান সময়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।