যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে লেখা শনাক্ত করার টুল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা নিয়ে নতুন এক অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক এমা রথ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, যদিও এই টুলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে, তবুও শিক্ষা ও প্রকাশনা জগতে এগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগুলো মূলত মানুষের লেখা এবং এআই-এর তৈরি লেখার মধ্যে পার্থক্য করার দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে এর ফলাফল প্রায়শই প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাচ্ছে।
এআই শনাক্তকরণ টুলের সীমাবদ্ধতা
প্রথাগত প্লেজিয়ারিজম চেকার বা চৌর্যবৃত্তি শনাক্তকারী টুলগুলো মূলত ইন্টারনেটে বিদ্যমান তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে। অন্যদিকে, জিপিটিজিরো (GPTZero), প্যানগ্রাম (Pangram) বা টার্নিটিন (Turnitin)-এর মতো এআই ডিটেক্টরগুলো অ্যালগরিদম ব্যবহার করে লেখার গঠন, ছন্দ এবং শব্দের ধরন বিশ্লেষণ করে একটি অনুমানমূলক ফলাফল প্রদান করে। তবে স্ট্যানফোর্ডের একটি গবেষণা অনুযায়ী, এই টুলগুলো অনেক সময় ভুল ফলাফল দেয়, বিশেষ করে যারা ইংরেজি ভাষাভাষী নন অথবা যাদের লেখার ধরন প্রথাগত ধারার বাইরে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে।
সামাজিক প্রভাব ও আইনি জটিলতা
এই প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারের কারণে ইতিমধ্যে অনেকের ক্যারিয়ার ও সম্মান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফ্রান্সে থিয়েরি রিনল নামের এক শিক্ষার্থী ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, কারণ একটি এআই ডিটেক্টর টুল ব্যবহার করে তাকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগে জেরি ফালাদে নামে একজন লেখকের বইয়ের চুক্তি বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একে অপরের বিরুদ্ধে এআই দিয়ে লেখার অভিযোগ তুলে আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান
এআই শনাক্তকারী টুলের অনির্ভরযোগ্যতার কারণে ইয়েল, জনস হপকিন্স, ভ্যান্ডারবিল্ট এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান এগুলো ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এআই ডিটেক্টরগুলো পুরোপুরি কার্যকর নয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে সরাসরি মূল্যায়ন করা, লেখার বিষয়বস্তুকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা এবং পাঠদানের পদ্ধতিতে সৃজনশীলতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে লেখক ও শিক্ষার্থীরা তাদের কাজ ‘মানুষের লেখা’ হিসেবে প্রমাণ করতে বিভিন্ন সার্টিফিকেশন বা ব্যাজ ব্যবহারের পথ বেছে নিচ্ছেন, যা সামগ্রিক এই অবিশ্বাসের পরিবেশ মোকাবিলায় একটি নতুন ধারা তৈরি করেছে।