যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সাবেক কোভিড বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচির ব্যবহৃত সরকারি ফোনের ব্যক্তিগত বার্তার সূত্র ধরে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসন দাবি করেছেন, এই মেসেজগুলোতে ফাউচি করোনা টিকার প্রথম ট্রাইমিস্টারে গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জনসনের মতে, এটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র।
ফাউচির ব্যক্তিগত বার্তার এই অংশগুলো প্রকাশের পর সিনেটর রন জনসন ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে ফাউচি ব্যক্তিগতভাবে যা জানতেন, জনসম্মুখে তার উল্টো তথ্য প্রচার করেছেন। জনসন বলেন, এটি অত্যন্ত অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়। তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী নারীদের টিকা নিতে উৎসাহিত বা বাধ্য করা হয়েছে, অথচ ব্যক্তিগত আলোচনায় ফাউচি ঝুঁকির কথা বলেছিলেন।
তদন্তকারী সিনেটর রন জনসন এবং র্যান্ড পল ফাউচির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (NIAID) প্রধান থাকাকালীন সময়ের সরকারি ফোনটি স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মাধ্যমে হাতে পান। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ফাউচি, তৎকালীন সিডিসি পরিচালক ড. রোশেল ওয়ালেনস্কি এবং বর্তমান সার্জন জেনারেল ড. বিবেক মূর্তির মধ্যে হওয়া একটি কথোপকথনে ফাউচি লিখেছিলেন, দ্বিতীয় ডোজের পর অনেকের ক্ষেত্রে সাইটোকাইন স্টর্ম ও জ্বরের ঘটনা ঘটে, যা তাত্ত্বিকভাবে প্রথম ট্রাইমিস্টারে গর্ভপাতের কারণ হতে পারে।
জনসন অভিযোগ করেন যে, সরকারি কর্মকর্তারা তথ্যের পরিসংখ্যান বিকৃত করে সাধারণ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করেন, গর্ভপাতের হার নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর।
সিনেটর রন জনসনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি ফাউচির ফোনের আরও তথ্য খতিয়ে দেখছে। তিনি জানিয়েছেন, ফাউচির কর্মকাণ্ড এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের এই অসঙ্গতি সাধারণ মানুষের অবহিত সম্মতির (informed consent) ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই তদন্ত দীর্ঘমেয়াদী হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ড. ফাউচির প্রতিনিধিত্বকারী আইনি প্রতিষ্ঠানের কোনো মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।