যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদ তার অতীতের বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছেন। রিপাবলিকান কৌশলী কলিন রিডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আল-সায়েদ তার পুরনো পোস্টে আতশবাজি এবং আমেরিকান ফুটবলকে যেভাবে সমালোচনা করেছিলেন, তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপন্থী ভোটারদের সমর্থন পেতে এই প্রার্থীরা তাদের অতীতে করা কট্টর বামপন্থী মন্তব্যগুলো আড়াল করতে চাইছেন।
আল-সায়েদের পাশাপাশি উইসকনসিনের ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্ট প্রার্থী ফ্রান্সেসকা হংয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরণের প্রবণতা দেখা গেছে। তিনিও তার অতীতের উগ্র মন্তব্য এবং থ্যাঙ্কসগিভিং ছুটির বিরোধিতা সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। যদিও পরে তিনি মন্তব্যগুলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে বিতর্ক থামছে না।
এই প্রার্থীদের এমন আচরণের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রথমত, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নতুন ধারার নেতৃত্বের অভাব। দ্বিতীয়ত, বর্তমান প্রজন্মের প্রার্থীদের ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা, যেখানে তারা অনেকটা না ভেবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন। তৃতীয়ত, সমাজতান্ত্রিক আদর্শের মূল ভিত্তি যা প্রথাগত মার্কিন মূল্যবোধের বিপরীতে অবস্থান নেয়।
কলিন রিডের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরনো পোস্ট বা ভিডিও মুছে ফেলা সম্ভব হলেও, প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক দর্শনের গভীরতা মুছে ফেলা যায় না। ভোটাররা প্রার্থীদের ডিজিটাল ইতিহাসের চেয়ে তাদের প্রকৃত আদর্শের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন বলে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।