যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত মেরিন বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা জানিয়েছেন যে, মায়ের বয়স ডিএনএ পরিবর্তন ছাড়াই সন্তানের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও আচরণ নির্ধারণ করতে পারে। গবেষক ক্রিস্টিন গ্রিবল এবং তার দল এই গবেষণায় লক্ষ্য করেছেন যে, মাতৃত্বকালীন বয়স সংক্রান্ত প্রভাবগুলো স্থায়ী ডিএনএ মিউটেশনের পরিবর্তে জিনের সক্রিয়তা পরিবর্তনের (এপিজেনেটিক প্রক্রিয়া) মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
গবেষণায় রটিফার নামক এক ধরণের ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীকে নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি কেবল মা নয়, বরং দাদি ও নানিদের শারীরিক ও পরিবেশগত তথ্যও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত ধারণা করা হতো যে মায়ের বয়সের কারণে সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ডিএনএ ক্ষতি বা মিউটেশনের কারণে হয়। তবে নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, জিনের ওপর হওয়া এই পরিবর্তনগুলো এক প্রজন্মের মধ্যেই বিপরীতমুখী বা পরিবর্তনযোগ্য হতে পারে। অর্থাৎ, হিস্টোন মডিফিকেশনের মাধ্যমে জিন চালু বা বন্ধ করার যে প্রক্রিয়া, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ
গবেষণার প্রধান ক্রিস্টিন গ্রিবল উল্লেখ করেন, মাতৃত্বকালীন বয়সের প্রভাব মানুষসহ অনেক প্রাণী প্রজাতির মধ্যেই দেখা যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মায়ের বয়সের প্রভাব সব সময় নেতিবাচক হয় না। নির্দিষ্ট কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্তানদের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার মতো ইতিবাচক প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের স্বাস্থ্য কেবল তার নিজস্ব জিনোমের ওপর নির্ভর করে না, বরং তার মা, দাদি বা নানিদের শারীরিক অবস্থা ও পরিবেশগত অভিজ্ঞতার ওপরও তা অনেকাংশে নির্ভরশীল। এই জ্ঞান ভবিষ্যতে প্রিডিসিশন মেডিসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।