বাংলাদেশের কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, যা সারা দেশে তীব্র সংকট তৈরি করেছে। পেট্রোবাংলার প্রকৌশল পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, টার্মিনালটি সচল করতে জরুরি মেরামতের কাজ চলছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সংকটের কারণে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ বিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ২ বিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমদানি করা এলএনজি দুটি ভাসমান ইউনিটের মাধ্যমে নিয়মিত জাতীয় পাইপলাইনে যুক্ত হয়। এর মধ্যে একটি বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীর অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনেক স্টেশন দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে, আবার কোনো কোনো স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস মিলছে না। দুপুরে ঢাকার হাজিপাড়া ও তেজগাঁও এলাকার বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে যত দ্রুত সম্ভব গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নিয়ে তাদের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।