দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্সটিটিউট ফর বেসিক সায়েন্সের গবেষকদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল শুক্র গ্রহের মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্যময় উপাদানের প্রকৃতি নিয়ে নতুন তথ্য উদঘাটন করেছে। শুক্রের মেঘের গাঢ় আল্ট্রাভায়োলেট প্যাটার্নের পেছনে ঠিক কী উপাদান কাজ করছে, তা দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় ধাঁধা। গবেষকরা এখন গাণিতিক মডেলিংয়ের মাধ্যমে এই উপাদানটির আলোর শোষণ ক্ষমতা ও ঘনত্ব সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা দিয়েছেন।
সাধারণ চোখে শুক্র গ্রহকে হালকা হলুদ রঙের দেখালেও, আল্ট্রাভায়োলেট আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যে এর রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন গ্রহের ওপরের সালফিউরিক অ্যাসিডের মেঘে গাঢ় ও উজ্জ্বল রঙের অদ্ভুত নকশা ভেসে ওঠে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই মেঘের কণাগুলো যেভাবে আলোকে বিচ্ছুরিত করে, তা অনেকটা সিগারেটের ধোঁয়ার কণার মতো। দূর থেকে মেঘকে হালকা হলুদ মনে হলেও, এর ভেতরে থাকা তরল পদার্থ অনেক বেশি গাঢ় হতে পারে।
গবেষণাটিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যের সাথে রেডিওএটিভ-ট্রান্সফার মডেল ব্যবহার করে দেখা হয়েছে, শুক্রের মেঘের ভেতরের তরল পদার্থ আল্ট্রাভায়োলেট ও নীল আলোকে কতটা শক্তিশালীভাবে শোষণ করে। ফলাফল অনুযায়ী, এই অজানা উপাদানটি অত্যন্ত উচ্চ ঘনত্বের অথবা আলোর প্রতি প্রচণ্ড সংবেদনশীল হতে হবে।
গবেষক দলের প্রধান ড. জ্যান স্পেসেক জানিয়েছেন, এটি নিশ্চিতভাবে জৈব বা অজৈব উপাদান কি না তা এখনো জানা যায়নি। তবে নতুন এই গাণিতিক সীমাবদ্ধতাগুলো ভবিষ্যতে মহাকাশযানের মাধ্যমে সরাসরি পরীক্ষার পথ প্রশস্ত করবে। আগামীতে শুক্র গ্রহে পাঠানো বিভিন্ন মিশনে অটফ্লুরোসেন্স নেফেলোমিটারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করে এই রহস্যময় উপাদানের স্বরূপ খোঁজার পরিকল্পনা রয়েছে।