বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, সারাদেশে সিডিউল অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যা কাটিয়ে উঠতে এক সপ্তাহের সময় প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন, অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর আবার তা চালু করতে অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আগামী এক সপ্তাহ তথ্য বিশ্লেষণ করবে এবং এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার গত মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু করেছে। একইসাথে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। শিল্পের চাহিদার কারণে কোনো কোনো দিন এই ঘাটতি আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি সাধারণ জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে, কৃষি ও পরিবহন খাতে ডিজেলের ব্যবহারের তুলনায় বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহারের হার অনেক কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।