যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) ব্যবহার করে আদি মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি সম্পর্কে নতুন তথ্য উদঘাটন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মহাবিশ্বের শুরুর দিকের বৃহৎ ও পরিণত গ্যালাক্সিগুলোতে ছোট এবং অনুজ্জ্বল নক্ষত্রের সংখ্যা বিজ্ঞানীদের পূর্বের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। এই লুকানো নক্ষত্রগুলোর কারণে গ্যালাক্সিগুলোর ভর আগের অনুমানের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি হতে পারে। এই ফলাফল নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা নয়টি বিশাল এবং পরিণত গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করেন, যেখানে কয়েক বিলিয়ন বছর আগে নক্ষত্র গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের তথ্যের সাথে পূর্বের গ্রাউন্ড-ভিত্তিক ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’-এর ডেটা সমন্বয় করে তারা গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোর অনুপাত নির্ণয় করেছেন।
পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যার অধ্যাপক জোয়েল লেজা জানান, এই গ্যালাক্সিগুলো আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভারী। তাদের এই বৈশিষ্ট্য মহাবিশ্বের শুরুর দিকের গ্যালাক্সি গঠনের প্রচলিত তত্ত্বগুলোকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক ক্লোয়ি চেং এই বিষয়টিকে রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো গ্যালাক্সিকে যদি একটি শহর হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলো হলো আকাশচুম্বী অট্টালিকা। কিন্তু নতুন মডেলে দেখা গেছে, সেই উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোর আড়ালে ছোট অনেক নক্ষত্র লুকিয়ে আছে, যা শহরের ছোট বাড়িগুলোর মতো। এই বিশাল সংখ্যার অনুজ্জ্বল নক্ষত্রের উপস্থিতির কারণেই গ্যালাক্সিগুলো আগের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি ভারী মনে হচ্ছে।
এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে নতুন চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে। বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পরপরই কীভাবে এত বিশাল ও পরিণত গ্যালাক্সি গঠিত হলো, তা ব্যাখ্যা করা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ছোট নক্ষত্রগুলোর চারপাশে গ্রহের সংখ্যাও সম্ভবত আদি মহাবিশ্বে আগে যা ভাবা হতো তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। গবেষক দল ভবিষ্যতে আরও প্রাচীন গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের শুরুর দিকের ইতিহাস উন্মোচনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।