যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডশায়ারের বারফোর্ড শহরে অর্থনৈতিক চাপের কারণে ঘোড়ার মালিকরা তাদের পোষা প্রাণী দাতব্য সংস্থার কাছে হস্তান্তর করছেন বলে জানিয়েছে ব্লু ক্রস। সংস্থাটির অ্যাডমিশন কোঅর্ডিনেটর ফ্রেয়া লং জানান, আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ায় ঘাসের অভাব এবং খড়ের উচ্চমূল্যের কারণে ঘোড়া পালন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে অক্সফোর্ডশায়ারের এই কেন্দ্রে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০টি ঘোড়া আসছে। ব্লু ক্রসের তথ্যানুযায়ী, পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে গত কয়েক বছরে ঘোড়া হস্তান্তরের হার ১৬০ শতাংশ বেড়েছে।
কেন এই সংকট
ঘোড়া পালনের খরচের মধ্যে শুধু খাবার নয়, বরং পশুচিকিৎসা, টিকা, কৃমিনাশক ওষুধ এবং নাল বদলানোর খরচও অন্তর্ভুক্ত। ব্লু ক্রসের ঘোড়া কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ভিকি আলফোর্ড জানান, এসব খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া মালিকরা বাধ্য হয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
আরএসপিসিএ-এর ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘোড়া পালনের ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক সংকট নয়, বরং পর্যাপ্ত জায়গা ও সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং ঘোড়ার আজীবন যত্নের পরিকল্পনা না থাকাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এই সমস্যাগুলোকে আরও প্রকট করেছে।
সাহায্য চাওয়ার আহ্বান
দাতব্য সংস্থাটি মালিকদের পরামর্শ দিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই যেন তারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। ভিকি আলফোর্ড বলেন, ঘোড়ার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ার আগেই মালিকদের উচিত তাদের সাথে যোগাযোগ করা। সংস্থাটি তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত এবং কোনো বিচার করা হবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছে।