যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক পরিবার এমন অঞ্চলে বসবাস করছে যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জীবনযাত্রার মানের কোনো উন্নতি ঘটাতে পারছে না। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসি তাদের এক নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির উত্তরের অঞ্চল, মিডল্যান্ডস এবং ওয়েলসের বাসিন্দাদের ক্রয়ক্ষমতা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে লন্ডন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি, যা দেশটিতে উত্তর-দক্ষিণের বৈষম্যকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পরিবার বা দেশের মোট পরিবারের ৪৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত। এই পরিবারগুলো মূলত সেইসব এলাকায় বাস করে যেখানে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। ইয়র্কশায়ার এবং হাম্বার অঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্রয়ক্ষমতা জাতীয় গড়ের তুলনায় বার্ষিক ১ হাজার ৯১৭ পাউন্ড কম, যা অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় বেশি।
পিডব্লিউসি জানিয়েছে, তারা কর এবং আবাসন খরচ পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই ক্রয়ক্ষমতার হিসাব করেছে। গবেষকদের মতে, জিডিপি বাড়লেই যে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ে না, এই প্রতিবেদনটি তারই প্রমাণ। লন্ডনের মতো উন্নত অঞ্চলেও স্থানীয় পর্যায়ে আয়ের বড় ধরনের তারতম্য রয়েছে; যেমন রিচমন্ডের গড় বার্ষিক আয় হ্যামারস্মিথ ও ফুলহামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার সরকারের পরিকল্পনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক এই নীতিমালার সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারের বাড়তি ব্যয় করলেই মানুষ ধনী হবে না। তিনি বর্তমান সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপকে লোক দেখানো বলেও অভিহিত করেছেন।