যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দীর্ঘমেয়াদী সরকারি ঋণের খরচ ১৯৯৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আগামী মাসের বাজেটের আগে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার দেশটির ৩০ বছর মেয়াদী সরকারি ঋণের (গিল্ট) ইয়েল্ড ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে বার্নহ্যাম হাউস অব কমন্সে তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ‘আর্থিক দায়বদ্ধতাকে’ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বর্তমান সংকট ও বাজেট প্রস্তুতি
বর্তমানে যুক্তরাজ্য জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা নিরসনকে সরকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। চ্যান্সেলর জন হিলি এবং প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের জন্য এই উচ্চ ঋণের হার বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। সরকারি ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজেট ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা বা হেডরুম কমে গেছে। এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাধারণ মানুষের জন্য সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বার্নহ্যাম জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া
কনজারভেটিভ দলের নেতা কেমি ব্যাডেনক পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বার্নহ্যামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তত্ত্ব ভুল এবং তিনি কেবল সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে সমৃদ্ধি অর্জনের অবাস্তব স্বপ্ন দেখছেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও বাজারের প্রভাব
যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপেও বর্তমানে সরকারি ঋণের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মূলত মূল্যস্ফীতি, ঋণের মাত্রা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অত্যধিক ব্যয়ের কারণে উদ্বিগ্ন। জেপি মরগানের প্রধান বাজার কৌশলবিদ কারেন ওয়ার্ডের মতে, সরকারগুলো ব্যয় মেটাতে ঋণ নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা সুদহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি খাতের বিশাল বিনিয়োগও বাজারকে প্রভাবিত করছে।
এদিকে সরকারি ঋণের এই বাড়তি সুদহার ব্যবসা ও গৃহস্থালির ঋণকেও ব্যয়বহুল করে তুলছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আগামী ২৮ অক্টোবর বার্নহ্যাম সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।