যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সাক্ষাৎকারে জনপ্রিয় নির্মাতা মেল গিবসন তার পরিচালিত সিনেমা ‘দ্য প্যাশন অব দ্য ক্রাইস্ট’ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। রেমন অ্যারোয়োর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি সিনেমাটির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং এর থেকে প্রাপ্ত দর্শকদের নানা অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। আগামী ১০ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর সিনেমাটি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে।
সিনেমাটির প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে গিবসন জানান, ২০০৪ সালে মুক্তির সময় সিনেমাটি ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের আশঙ্কা থাকলেও আদতে তা মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেনি। উল্টো তিনি অনেক মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের গল্প শুনেছেন। গিবসনের ভাষ্যমতে, সিনেমাটি দেখার পর অনেক দর্শক তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন, যার মধ্যে ব্যাংক ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধও রয়েছে।
ছবিটি তৈরির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গিবসন বলেন, তিনি যিশু খ্রিস্টের জীবনের শেষ ১২ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহকে যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। পূর্বের নির্মাণগুলোতে এই কাহিনীকে যেভাবে সহজ বা স্যানিটাইজড করে দেখানো হয়েছিল, তিনি তার বিপরীতে গিয়ে যিশুর সেই যন্ত্রণাদায়ক যাত্রার ভয়াবহতা তুলে ধরতে চেয়েছেন।
সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে ৬১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এবং বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। এটি ধর্মভিত্তিক সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ নতুন করে তৈরি করতে সাহায্য করে।
বর্তমানে মেল গিবসন তার আগামী দুই পর্বের সিনেমা ‘দ্য রেজারেকশন অব দ্য ক্রাইস্ট’ নিয়ে কাজ করছেন। প্রথম পর্বটি ৬ মে ২০২৭ এবং দ্বিতীয় পর্বটি ২৫ মে ২০২৮ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জানান, যিশুর পুনরুত্থানের মহিমাকে বিশাল ক্যানভাসে তুলে ধরাই তার নতুন প্রজেক্টের প্রধান লক্ষ্য।