বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশি ব-দ্বীপ অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য পানির স্তর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের কারিগরি সক্ষমতা জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এম এ লতিফ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্স (ICOG), সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাস যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি ব-দ্বীপীয় জাতি হিসেবে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর মোকাবিলা করছি। উপকূলীয় এলাকা পরিমাপের নির্ভুলতা রক্ষার ওপরই আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময় এবং বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ দেশের ব্লু-ইকোনমিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম ও ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভূমি অবনমনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ ও কৌশলগত অভিযোজনের জন্য এই কারিগরি প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। এটি ফরাসি দূতাবাসের অর্থায়নে চলমান একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ।
উল্লেখ্য, দুই ধাপে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ৬০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন অতিথিরা।