আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিদ্যমান বিবাদের জেরে ওই অঞ্চলে তেল উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে মিলেই বলেন, ব্রিটিশ শাসিত এই দ্বীপপুঞ্জের কাছে সি লায়ন তেলক্ষেত্রে ব্রিটিশ ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধান কার্যক্রম দেশটির জন্য স্পষ্ট ও বর্তমান হুমকি। ফকল্যান্ডসের ওপর আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ও আইনগত অধিকার রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ওই অঞ্চলে দীর্ঘ চার দশকের পুরনো সার্বভৌমত্ব বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মিলেই জানান, ফকল্যান্ডসের অদূরে সি লায়ন তেলক্ষেত্রে আগামী দুই বছরের মধ্যে তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাজ্যের রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরায়েলের নাভিটাস পেট্রোলিয়াম। এই প্রকল্প ঠেকাতে তিনি পার্লামেন্টে নতুন একটি বিল উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। সি লায়ন তেলক্ষেত্রে প্রায় ১৭০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিলেই আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে যা ফকল্যান্ডস বা লাস মালভিনা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির অনুকূলে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এছাড়া আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্তের তেরা দেল ফুয়েগোতে নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ব্রিটিশ সরকার বরাবরই বলে আসছে, ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা ব্রিটিশ এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ২০১৩ সালের এক গণভোটে ৯৯.৮ শতাংশ বাসিন্দা ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস দখল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধের পর এটি আবারও বিশ্বমঞ্চে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।