যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি সার্কিটের ফেডারেল আপিল আদালত মঙ্গলবার এক রায়ে আইআরএস (IRS)-কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ঠিকানা শেয়ার করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ বহাল রেখেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত এই নীতিমালা আইনবহির্ভূত।
মামলার নথি অনুযায়ী, আইসিই (ICE) প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীর সর্বশেষ ঠিকানা চেয়ে আইআরএস-এর কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে আইআরএস গত বছর প্রায় ৪৭ হাজার করদাতার ব্যক্তিগত ঠিকানা আইসিই-এর কাছে হস্তান্তর করে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে করা হয়েছিল।
আদালত জানায়, এই তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ফেডারেল ট্যাক্স-গোপনীয়তা আইনের কঠোর শর্তাবলী মেনে চলা হয়নি। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর গৃহীত এই আইন অনুযায়ী, কর সংক্রান্ত তথ্য অন্য কোনো ফেডারেল সংস্থাকে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইউএস সার্কিট বিচারক কর্নেলিয়া পিলার্ড তার রায়ে উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল এই নীতি ফেডারেল আইন প্রয়োগে সহায়তা করছে, কিন্তু আইআরএস কর আইনের মৌলিক নিয়মগুলো লঙ্ঘন করেছে। আদালত জানায়, আইসিই যে প্রক্রিয়ায় তথ্য চেয়েছিল তা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বা তদন্তের যৌক্তিকতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।
বিচারক পিলার্ড আরও বলেন, আইআরএস কোনো ব্যক্তিগত যাচাই-বাছাই ছাড়াই লাখ লাখ রেকর্ড অটোমেশনের মাধ্যমে আইসিই-কে সরবরাহ করেছে। এই পদ্ধতি করদাতাদের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে এবং ফেডারেল আইনের অধীনে তাদের প্রাপ্য সুরক্ষাকে বঞ্চিত করেছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, আদালতের এই রায়ের সাথে তারা একমত নন। তবে তারা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও অপসারণের জন্য আইনগতভাবে উপলব্ধ সকল উপায় ব্যবহার অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন।