যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, যার ফলে প্রায় দুই হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাটস (Nats)-এর প্রধান মার্টিন রোলফ এই যান্ত্রিক ত্রুটির কথা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। এই বিঘ্নতা বিমান চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরি করায় পরিবহন সচিব হাইডি আলেকজান্ডার ন্যাটস প্রধানকে জরুরি বৈঠকে তলব করেছেন।
এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স ফার্ম সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১,৭৫০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং বুধবার আরও ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হাইডি আলেকজান্ডার নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনার পেছনে সাইবার হামলার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব
লন্ডনের হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরগুলো এই গোলযোগের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিথ্রো বিমানবন্দরে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে অন্য গন্তব্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ১০০টিরও বেশি এবং ইজিজেট ২০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের বিমানবন্দরগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ
ভ্রমণকারী অনেকের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে অথবা তারা দীর্ঘ সময় উড়োজাহাজের ভেতর রানওয়েতে আটকা পড়ে ছিলেন। গ্যাটউইক বিমানবন্দরে ফিল হোয়াইট নামের একজন যাত্রী জানান, রাডার অকেজো থাকায় তাদের উড়োজাহাজ দীর্ঘ সময় টেক-অফ করতে পারেনি। রায়ানএয়ার ও উইজ এয়ারের মতো সংস্থাগুলো ন্যাটসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
পরবর্তী পরিস্থিতি
ন্যাটস জানিয়েছে যে, তারা ফ্লাইট ডাটা প্রসেসিং সিস্টেমে ত্রুটি শনাক্ত করেছে। যদিও ত্রুটিটি সমাধানের চেষ্টা চলছে, তবে ফ্লাইট সূচি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সচিব। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তাদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।