পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে বাইরে খেতে গেলে খাবারের মূল দামের পাশাপাশি নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচ যোগ হতে পারে, যা সচেতন থাকলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মেনু ভালোভাবে না দেখে অর্ডার করা বা রেস্টুরেন্টের বাড়তি চার্জ সম্পর্কে না জানার কারণে অনেক সময় বিল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়ে যায়।
রেস্টুরেন্টে যাওয়ার আগে অনলাইনে মেনু দেখে বাজেট সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ভালো। অনেক রেস্টুরেন্ট এখন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ওয়েবসাইটে মেনু প্রকাশ করে। অর্ডার দেওয়ার আগে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাট বা অন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত আছে কি না, তা কর্মীদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি। অনেক সময় মেনুতে মূল দাম থাকলেও বিলের সময় অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হয়, যা শেষ মুহূর্তে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে।
খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা প্রয়োজন। ক্ষুধার সময় মেনু দেখে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার অর্ডার করার প্রবণতা অনেকেরই থাকে। বিশেষ করে বড় প্ল্যাটার বা কম্বো আইটেম অর্ডার করার আগে মানুষের সংখ্যা ও খাবারের পরিমাণ বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে প্রথমে অল্প খাবার অর্ডার করে পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও খাবার নেওয়া ভালো। নতুন কোনো খাবারের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ও উপকরণ সম্পর্কে কর্মীদের জিজ্ঞেস করে নেওয়া যেতে পারে।
পানীয় বা ডেজার্টের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে খাবারের চেয়ে পানীয়ের দাম বেশি হতে পারে। এছাড়া বিজ্ঞাপনের ‘ডিসকাউন্ট’ বা ‘অফার’ দেখেই কোনো কিছু অর্ডার করার আগে এর শর্তগুলো জেনে নেওয়া দরকার। অনেক সময় নির্দিষ্ট কার্ড, অ্যাপ বা সময়ের শর্ত থাকে, যা না জানলে সাশ্রয় হয় না।
সবশেষে, বিল হাতে পাওয়ার পর তাতে অর্ডার করা খাবারের সংখ্যা, দাম এবং অতিরিক্ত চার্জ ঠিক আছে কি না, তা মিলিয়ে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ। রেস্টুরেন্টে যাওয়ার আগে একটি আনুমানিক বাজেট ঠিক করা এবং সঙ্গীদের সঙ্গে খাবারের পছন্দ আগেভাগে আলোচনা করে নিলে অপ্রয়োজনীয় অর্ডারের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।