ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে গত এক মাসে ৫০০-এর বেশি সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় দেড় হাজার সেনা। সরকারপন্থি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির পশ্চিম উপকূলে দীর্ঘদিনের সংঘাত সম্প্রতি আরও তীব্র আকার ধারণ করায় সরকারি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সরকারপন্থি বাহিনীর দাবি, এই লড়াইয়ে হুথিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি বাহিনীর চেয়েও বেশি। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে নিরপেক্ষ কোনো উৎস থেকে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৌদি আরবের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। গত শুক্রবার সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইনটি দ্রুত সচল করা না গেলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ববাজারে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় চার শতাংশ এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল। পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সৌদি আরবের মজুত তেল শেষ হয়ে যেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ইতিমধ্যে চাপের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।