মোলদোভার রাজধানী চিসিনাউতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মায়া সান্দুর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্তানিস্লাভ সেকরিয়ারু জানিয়েছেন, ইউক্রেন-মোলদোভা সীমান্তে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলা ইউক্রেনের অর্থনীতি ও ইউরোপীয় বাজারে তাদের প্রবেশের পথকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তার মতে, কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রফতানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মোলদোভা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং রাশিয়া এই পথগুলো বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে।
সেকরিয়ারু আরও জানান, রাশিয়া শুধু স্থলভাগে নয়, মোলদোভার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেও ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। আগস্ট মাসে ১৭ বার মোলদোভার আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে, যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। রাশিয়ার এসব কর্মকাণ্ডকে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং পশ্চিমাদের সমর্থন থেকে সরে আসার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোলদোভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগমুহূর্তেও রাশিয়ার পাঁচটি ড্রোন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাম্প্রতিক চিসিনাউ সফরে গিয়ে মোলদোভার জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং রাশিয়ার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে হাইব্রিড যুদ্ধের মাধ্যমে মোলদোভায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দেশটি রাশিয়ার চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমানে ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার প্রায় ১৫০০ সেনা অবস্থান করছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইভানা স্ট্রাডনার সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটো জোটের বাইরে থাকা দেশগুলোকে পরীক্ষা করার জন্য রাশিয়া মোলদোভাকে একটি পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি বাল্টিক দেশগুলোর জন্য রাশিয়ার পরবর্তী পরিকল্পনার একটি মহড়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এস্তোনিয়া এবং লাটভিয়ার মতো দেশগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য উসকানি নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে।