যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মঙ্গল গ্রহের অভিযানে ব্যবহৃত রোভারের একটি প্রকৌশলগত মডেলকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সংস্থাটির মুন বেস প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্যে এই পরিকল্পনার কথা জানান। মঙ্গল অভিযানের অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নাসা জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত এই রোভারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রমিস’ (পোলার রোভার ফর অবজারভেশন, ম্যাপিং অ্যান্ড ইন-সিটু এক্সপ্লোরেশন)। এটি মূলত মঙ্গলের কিউরিওসিটি এবং পারসেভিয়ারেন্স রোভারের প্রকৌশলগত পরীক্ষার জন্য তৈরি মডেলগুলোর একটি সংকর সংস্করণ। আগে এটি ‘অপ্টিমিজম’ নামে পরিচিত ছিল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
নাসা জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির বরফ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকায় সেখানে ভবিষ্যৎ ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। এই রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু পর্যবেক্ষণ ও সেখানকার ভূপৃষ্ঠ এবং ভূগর্ভস্থ তথ্য সংগ্রহে বড় ভূমিকা রাখবে। রোভারটিতে প্লুটোনিয়াম চালিত রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর (এমএমআরটিজি) ব্যবহার করা হবে। এর ফলে সূর্যের আলোর ওপর নির্ভর না করেই রোভারটি চাঁদের যেকোনো প্রান্তে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বর্তমানে ‘প্রমিস’ একটি ধারণা মাত্র। মহাকাশে যাওয়ার উপযোগী করতে রোভারটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। দ্য প্ল্যানেটারি সোসাইটির তথ্যমতে, এই রোভারে এখনো প্রয়োজনীয় সেন্সর, বিজ্ঞানসম্মত যন্ত্রপাতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা তাপ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেই। এছাড়া চাঁদের ধূলিকণা মোকাবিলার উপযোগী করে একে গড়ে তুলতে হবে। এই প্রকল্পের পেছনে প্রায় ৭০ থেকে ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে এবং রোভারটি ২০৩০-এর দশকের শুরুতে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।