বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ওয়াকওয়েতে এক স্কুলছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক কিশোর পেছন থেকে এসে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাথি মারে। প্রতিবাদ করলে তাকে আবারও লাথি দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর ইউনিয়নের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়সংলগ্ন ওয়াকওয়েতে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী সেখানে ছিল। অভিযুক্ত কিশোরকে পরবর্তীতে স্থানীয় সালিসে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার দাবি, স্কুল চলাকালীন স্কুলের বাইরে যাওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তে তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। তাই নিয়ম অনুযায়ী ওই ছাত্রীদের টিসি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের মেয়েকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।