দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলে ৬০ হাজার বছরের পুরোনো উটপাখির ডিমের খোলসের অসংখ্য খোদাই করা টুকরো খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, হোমো সেপিয়েন্সরা সেই সময়েই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল জ্যামিতিক নকশা তৈরি করত। এই গবেষণাটি পিএলওএস ওয়ান (PLOS One) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খোলসগুলোতে থাকা নকশাগুলো কোনো সাধারণ আঁচড় বা এলোমেলো অলংকরণ ছিল না। বরং সেখানে সমান্তরাল রেখা, সমকোণ এবং নির্দিষ্ট পুনরাবৃত্তিমূলক জ্যামিতিক কাঠামোর ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকদের মতে, এই প্রাচীন মানুষেরা খোদাই করার আগেই মনের মধ্যে পুরো নকশাটি পরিকল্পনা করে নিত, যা তাদের উন্নত বিমূর্ত চিন্তাশক্তির পরিচয় দেয়।
বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিলভিয়া ফেরারা এই গবেষণার সমন্বয় করেছেন। তিনি জানান, এসব নকশা কেবল রেখা টানা ছিল না, বরং এতে ছিল এক ধরনের ভিজ্যুয়াল গ্রামার বা দৃষ্টিগ্রাহ্য ব্যাকরণ। সমান্তরাল রেখা, গ্রিড এবং নিয়মতান্ত্রিক পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তারা জ্যামিতিক সম্পর্কের এক অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন।
গবেষকরা দক্ষিণ আফ্রিকার ডাইপক্লুফ ও ক্লিপড্রিফট এবং নামিবিয়ার অ্যাপোলো ১১ সাইট থেকে উদ্ধার করা ১১২টি টুকরো বিশ্লেষণ করেছেন। আধুনিক জ্যামিতিক ও পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির মাধ্যমে তারা দেখেছেন যে, ৮০ শতাংশেরও বেশি নমুনায় নির্দিষ্ট কাঠামোগত সামঞ্জস্য রয়েছে।
গবেষক দলের সদস্য ভ্যালেন্টিনা ডেসেমব্রিনি জানান, ৬০ হাজার বছর আগের হোমো সেপিয়েন্সদের মধ্যে বিমূর্ত নীতি অনুযায়ী ভিজ্যুয়াল জগত সাজানোর অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। সাধারণ রূপকে নিয়মের মাধ্যমে জটিল ব্যবস্থায় রূপান্তর করার এই প্রবণতা মানব বিবর্তনে জ্ঞানীয় বিকাশের এক বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।