যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদরা একটি নতুন প্রভাবক উদ্ভাবন করেছেন, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইলেকট্রন গ্রহণের প্রচলিত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক জাচারি উইকেনস জানিয়েছেন, এই নতুন পদ্ধতি ইলেকট্রনকে সরাসরি দ্রবণে মুক্ত করার মাধ্যমে এমন সব বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে, যা এতদিন বিজ্ঞানীদের নাগালের বাইরে ছিল। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাটি রাসায়নিক অণু তৈরির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুটি অণুর মধ্যে প্রতিযোগিতা হলে, যে অণুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী বা সহজ, ইলেকট্রন সেখানেই যায়। এই স্বাভাবিক নিয়মটি বিজ্ঞানীদের নতুন পথ অনুসরণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করত। নতুন উদ্ভাবিত প্রভাবকটি ইলেকট্রনকে কোনো অণুর কাছে সরাসরি না পাঠিয়ে বরং দ্রবণে উন্মুক্ত করে দেয়। এর ফলে ইলেকট্রনটি দ্রবণে থাকা যেকোনো অণুর সাথে দ্রুত যুক্ত হতে বাধ্য হয়, এমনকি যে অণুটি সাধারণত ইলেকট্রন গ্রহণে আগ্রহী নয়, সেটিও বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।
গবেষণাটিতে উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, ইলেকট্রন স্থানান্তরের পর অণুগুলোর মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত বিক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
গত পাঁচ বছর ধরে উইকেনস এবং তার দল এই নতুন প্রভাবক তৈরির কাজ করেছেন। গবেষকদের মতে, এটি কেবল একটি নতুন সংশ্লেষণ পদ্ধতি নয়, বরং রেডক্স বিক্রিয়া ডিজাইনের একটি নতুন কৌশল। এই উদ্ভাবন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি এবং উন্নত প্রযুক্তির উপাদান তৈরির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।