যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক তাদের ক্লদ এআই মডেলের মাধ্যমে তৈরি টেক্সট, ছবি ও ফাইলে বিশেষ ওয়াটারমার্ক যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকরা যাতে এআই-সৃষ্ট কন্টেন্ট সহজেই শনাক্ত করতে পারেন, সেজন্যই এই প্রযুক্তি চালু করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই স্বচ্ছতা নীতিমালা মেনে চলার অংশ হিসেবেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে এই ওয়াটারমার্ক
অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, গত ২ আগস্ট বা তার পরে চালু হওয়া ক্লদ মডেলগুলোতে এই নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় ক্লদ এপিআই, ক্লদ কোড, ক্লদ কোওয়ার্ক এবং ক্লদ ট্যাগের মাধ্যমে তৈরি সব কন্টেন্ট এই ওয়াটারমার্কের অন্তর্ভুক্ত হবে। টেক্সটের ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবধান বা বিন্যাসে অদৃশ্য কিছু সংকেত যোগ করা হবে, যা সাধারণ পাঠকের চোখে ধরা না পড়লেও কম্পিউটার সিস্টেম সহজেই ধরতে পারবে। এই চিহ্নগুলো কপি-পেস্ট করলেও মুছে যাবে না।
ছবির ক্ষেত্রে মেটাডেটা ব্যবহার
এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগনেচার বা প্রোভেন্যান্স মেটাডেটা যুক্ত করা হবে। এতে ছবিটি কোথা থেকে এসেছে, কে তৈরি করেছে এবং এতে কোনো পরিবর্তন করা হয়েছে কি না—তার তথ্য থাকবে। যদি কেউ ছবিটি কারসাজি করে এআই পরিচয় লুকানোর চেষ্টা করে, তবে ক্রিপ্টোগ্রাফিক সিগনেচারটি ভেঙে যাবে, যা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে যে ছবিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সীমাবদ্ধতা
কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, ওয়াটারমার্ক থাকলেই যে সেটি শতভাগ ক্লদ দ্বারা তৈরি, তা নিশ্চিত নয়। আবার ওয়াটারমার্ক না থাকলেই যে এআই জড়িত নয়, তাও বলা যাবে না। কোনো কন্টেন্ট যদি ব্যাপকভাবে সম্পাদনা, অনুবাদ বা অন্যান্য লেখার সাথে মিশিয়ে ফেলা হয়, তবে সেক্ষেত্রে ওয়াটারমার্ক হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া স্ক্রিনশট বা নতুন করে ফাইল সেভ করলেও মেটাডেটা মুছে যেতে পারে।