বাংলাদেশের ঢাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকারী দল বিটিসিএলের একটি প্রকল্পে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পেয়ে হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী হুয়াওয়ের অর্থায়নে চীন সফরে গেছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন গ্রহণের নীতি নিয়ে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, বিটিসিএলের ‘ফাইভ-জি উপযোগীকরণে অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পে ১২৬ টেরাবাইট সক্ষমতার সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, অথচ চাহিদা ছিল মাত্র ২৬ টেরাবাইট। এতে রাষ্ট্রের প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘন, বিশেষজ্ঞদের আপত্তি উপেক্ষা এবং পণ্য পৌঁছানোর আগেই অর্থ ছাড়ের চাপের মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে।
টেলিটকের দাপ্তরিক আদেশ অনুযায়ী, ‘গ্রামাঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ফাইভ-জি সেবার জন্য নেটওয়ার্ক প্রস্তুতি’ প্রকল্পের আওতায় ফ্যাক্টরি টেস্টে অংশ নিতে গত ১০ আগস্ট চীনে গেছেন নুরুল মাবুদ চৌধুরী। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এই সফরে তার বিমানভাড়া, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য ব্যয় বহন করছে হুয়াওয়ে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন গ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি ক্রয়ে অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে শীর্ষ কর্মকর্তার এই সফর সরকারি ক্রয় নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।