যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের মালিকানাধীন জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টুইচ তাদের ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। টুইচের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার মাইক মিনটন এই বিষয়টি নিশ্চিত করার পর প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুমতি ছাড়াই এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের সুযোগ রাখা এবং সেটি ডিফল্টভাবে চালু রাখায় এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা চাইলে সেটিংস থেকে এই ফিচারটি বন্ধ বা অপ্ট-আউট করতে পারবেন। তবে ফিচারটি কেন ডিফল্টভাবে চালু রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মাইক মিনটন স্বীকার করেন যে, যদি এটি অপ্ট-ইন বা অনুমতি সাপেক্ষে রাখা হতো, তবে কেউ এতে সম্মতি দিত না।
অ্যামাজন বলছে, এই ডেটা ব্যবহার করে মূলত জেনারেটিভ এআই মডেল তৈরি করা হচ্ছে, যা স্পিচ-টু-টেক্সট বা স্বয়ংক্রিয় সাবটাইটেলের মতো প্রযুক্তি উন্নত করতে সাহায্য করবে। তবে কনটেন্ট নির্মাতাদের আশঙ্কা, তাদের সৃজনশীল কাজ ও ভিডিও গেমের ফুটেজ কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ছাড়াই এআই তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফিচারটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অসংখ্য স্ট্রিমার ও দর্শক। অনেকে এটিকে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া, সেটিংস থেকে অপশনটি বন্ধ করার পরও পুনরায় সেটি চালু হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী।
টুইচের কমিউনিটি প্রধান মেরি কিশ জানান, ডেটা সংগ্রহ এখন শিল্পের মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবহারকারীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে অ্যামাজন বা টুইচ এখন পর্যন্ত কতটুকু ডেটা ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।