ভারতের রোহানা থেকে মাসউরিগামী ট্রেনে এক অন্ধ যাত্রীর সাথে এক তরুণীর সাক্ষাতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে রাসকিন বন্ডের ছোটগল্প ‘চোখ’। লেখক নিজেই এই গল্পের বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি একজন দৃষ্টিহীন ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যাত্রাপথে তার কামরায় এক তরুণী সঙ্গী হিসেবে যোগ দেন। তার বাবা-মা তাকে নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন উপদেশ দিচ্ছিলেন।
ট্রেন ছাড়ার পর দৃষ্টিহীন যাত্রীটি তার অন্ধত্বের বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তিনি তরুণীর সাথে কথোপকথনের সময় মাসউরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দেন এবং অক্টোবর মাসে পাহাড়ের রূপ কেমন থাকে তা নিয়ে আলোচনা করেন। তরুণীও মাসউরি যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে যাত্রীটি তরুণীর রূপের প্রশংসা করলে তিনি কিছুটা লাজুক হাসি হাসেন। নিজের দৃষ্টিহীনতা লুকাতে তিনি জানালার বাইরের দৃশ্য দেখার ভান করেন, যদিও তিনি আসলে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না।
গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছায়। তরুণী বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার পর নতুন এক যাত্রী কামরায় প্রবেশ করেন। যাওয়ার আগে তরুণীর চুলের সুগন্ধ দৃষ্টিহীন যাত্রীর মনে স্থায়ী দাগ কেটে যায়। নতুন যাত্রীটি যখন ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন, তখন তিনি উল্লেখ করেন যে পূর্বের সেই তরুণীটি আসলে অন্ধ ছিলেন। এই তথ্য শোনার পর দৃষ্টিহীন যাত্রীটি হতবাক হয়ে পড়েন। ১৯৩৪ সালে ভারতের হিমাচল প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রখ্যাত লেখক রাসকিন বন্ডের এই গল্পটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুভবের গভীরতা নিয়ে রচিত।