যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে যাত্রা শুরু করা ‘রোগ স্টুডিও’ নামের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্নত মানের ভিডিও কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, যিনি ‘মিস্টার রোগ’ নামে পরিচিত, জানিয়েছেন যে তারা টেলিভিশন জগতে এইচবিও (HBO) যেভাবে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে, এআই প্রযুক্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনে সেই মান প্রতিষ্ঠা করতে চান। প্ল্যাটফর্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে আজ যাত্রা শুরু করেছে।
বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি এআই কনটেন্টের মান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কনটেন্টগুলো মানহীন বা সেকেলে প্রযুক্তিতে তৈরি। রোগ স্টুডিও তাদের ‘রোগ ১.০’ নামক মডেলের মাধ্যমে হলিউড পর্যায়ের ভিডিও তৈরির সুবিধা দিচ্ছে, যেখানে কোনো ধরনের সৃজনশীল বা যৌন বিষয়ক বিধিনিষেধ থাকছে না। সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে ব্যবহারকারীরা এই প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন টুলস ও নিজস্ব মডেল ব্যবহার করতে পারবেন।
প্ল্যাটফর্মটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীর তৈরি ছবি বা ভিডিও দিয়ে মডেল প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। পাশাপাশি, কোনো ধরনের সম্মতিহীন ডিপফেক, শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট বা পাবলিক ফিগারদের অননুমোদিত ছবি তৈরি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ক্ষতিকারক কনটেন্ট রোধে প্ল্যাটফর্মটিতে তিন স্তরের মানবিক যাচাইকরণ বা মডারেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্মটির সহ-প্রতিষ্ঠাতারা মূলত হলিউডের চলচ্চিত্র প্রযোজক। তবে এআই প্রযুক্তি ও প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নিয়ে বর্তমান হলিউডের বৈরী পরিস্থিতির কারণে তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছেন। তারা দাবি করেছেন, তাদের প্রযোজিত সিনেমার সম্মিলিত বক্স অফিস আয় ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
হলিউডে বর্তমানে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, অনেক বড় স্টুডিও এখন খরচ কমাতে এআই-এর ওপর নির্ভর করছে। নেটফ্লিক্সের মতো বড় প্ল্যাটফর্মও বর্তমানে তাদের ৩০০টি শোর উৎপাদনে এআই ব্যবহার করছে। রোগ স্টুডিও মনে করছে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল তৈরির সক্ষমতা ভবিষ্যতে দর্শকদের চাহিদা পূরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।