সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফার সদর দপ্তরে সংস্থাটির চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন ল্যামুরকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা—যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—তার কঠোর সমালোচনা করার তিন সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে এই পদক্ষেপ নিল ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা। ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে যে, কেভিন ল্যামুরের সাথে তাদের পেশাদার সম্পর্কের ইতি ঘটেছে এবং গত দুই বছরের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
গত মাসে ল্যামুর প্রকাশ্যে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি এটিকে ‘এক ব্যক্তির প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছিলেন, ফিফা প্রশাসনকে এই প্রকল্পের বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। ল্যামুরের মতে, একজন প্রেসিডেন্টের কাজ হলো সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা ও অনুপ্রাণিত করা, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি এর উল্টোটা দেখছেন। নিজের চাকরির ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, যদি এই মূল্যবোধের কারণে চাকরি যায়, তবে তা মেনে নেবেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত এফএফই প্রকল্পের মাধ্যমে ফিফার বাণিজ্যিক ও টিকিটের স্বত্ব পরিচালনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাবটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। উয়েফা ও কনকাকাফসহ বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে এবং বিশ্বকাপের বয়কটের হুমকিও দেয়। যদিও প্রকল্পটি পরে বাতিল করা হয়েছে, তবে এর জেরে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আগামী বছরের কংগ্রেসে তার চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাঁড়ানোর পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সোমবার বিকেলে ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইমেইলের মাধ্যমে কর্মীদের জানান যে, ল্যামুর ও ফিফা পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে, ইনফান্তিনোর সমর্থক কমে যাওয়ায় স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশ কিছু সংস্থা তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফেয়ারস্কয়ারের মতো দাতব্য সংস্থাগুলো দাবি জানিয়েছে, যেন ইনফান্তিনোকে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়াতে না দেওয়া হয়।