আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে বিশ্বকাপ ফাইনাল পরবর্তী সময়ে দেশটির সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। খোদ আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি, কিংবদন্তি মারিও কেম্পেস এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে (এএফএ) এসব ভিত্তিহীন দাবির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হয়েছে। মূলত হারের প্রকৃত কারণ খুঁজতে গিয়ে সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কাল্পনিক ঘটনার অবতারণা করছেন।
ফাইনাল ম্যাচে বল গোললাইন অতিক্রম করেছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অনেকে। তাদের দাবি, বলের ভেতরে থাকা ট্র্যাকিং চিপ নিয়ন্ত্রণ করে গোল বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া খেলোয়াড়দের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ, ম্যাচের ঠিক আগে ডোপিং পরীক্ষা এবং ফিফা সভাপতির গোপন সমঝোতার মতো দাবিও উঠে এসেছে।
অন্যতম আলোচিত একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ-সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফা ও ব্রিটিশ সরকারের চাপের মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ট্রাম্প, স্পেনের রাজা থেকে শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি—সবাইকে আর্জেন্টিনার হার নিশ্চিত করার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এমনকি এফবিআই কর্তৃক এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে গ্রেপ্তারের হুমকির গুঞ্জনও ছড়িয়েছে ড্রেসিংরুমে।
সবচেয়ে অদ্ভুত তত্ত্বগুলোর একটি হলো ফ্রিম্যাসনদের সংশ্লিষ্টতা। লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের ছোটবেলার একটি ছবিকে ফ্রিম্যাসনদের ‘দীক্ষা অনুষ্ঠান’ বা ‘সত্তা স্থানান্তর’ বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, কালো জাদুর ব্যবহার এবং রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচ পুনর্গঠনের দাবিও জানিয়েছেন অনেক সমর্থক।
উল্লেখ্য যে, মূলধারার সংবাদমাধ্যম এসব দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।