যুক্তরাষ্ট্রের ফিজিশিয়ানস কমিটি ফর রেসপনসিবল মেডিসিনের গবেষকরা জানিয়েছেন, স্বল্প চর্বিযুক্ত নিরামিষ বা ভেগান ডায়েট অনুসরণ করলে খাবারের পরিমাণ না কমিয়েই ওজন কমানো সম্ভব। সংস্থাটির ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ডিরেক্টর ড. হানা কাহলিওভা জানান, ওজন কমানোর জন্য সবসময় ক্যালরি গোনা বা ক্ষুধার্ত থাকার প্রয়োজন নেই, বরং সঠিক খাবার নির্বাচনই মূল চাবিকাঠি।
১৬ সপ্তাহ ধরে চলা এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীরা ফল, শাকসবজি, শস্য এবং ডাল জাতীয় খাবার খেয়েও তৃপ্তিদায়ক পরিমাণ খাবার গ্রহণ করেছেন। অথচ প্রচলিত অভ্যাসের তুলনায় তাদের শরীরে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা দৈনিক গড়ে প্রায় ৩৫৭ কিলো ক্যালরি কমেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, উদ্ভিজ্জ খাবারে পানির পরিমাণ ও ফাইবার বেশি থাকে, যা শরীরের মেদ জমার প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। মাংস বা দুগ্ধজাত খাবারের পরিবর্তে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে মানুষ দীর্ঘক্ষণ ভরা অনুভব করে, ফলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, এই খাদ্যতালিকায় ক্যালরির ঘনত্ব প্রায় ৩০ শতাংশ কমে আসে। যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ বা খাবারের পরিমাণ কমানোর কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবুও প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারের ধরন পরিবর্তনের ফলে তাদের ওজন কমতে দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর প্রচলিত পদ্ধতিতে মানুষের মধ্যে যে বঞ্চনাবোধ তৈরি হয়, এই নিয়মে তা হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এখানে খাবার কম খাওয়ার চেয়ে খাবারের গুণগত মান পরিবর্তনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদী ওজন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কার্যকর ও টেকসই উপায় হতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।