বাংলাদেশের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিআইএফএফএলের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর ও জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোর অভিযোগে করা মামলায় সালমান এফ রহমানকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ১৭ আগস্ট বিচারক মাহবুব আলমের আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় এটি আইন ও বিচারিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত ঘটনা।
মামলার অভিযোগ
মামলার বিবরণে বলা হয়, বিআইএফএফএলের সিইও থাকাকালে এস এম ফরমানুল ইসলামের ওপর সালমান এফ রহমানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিয়মবহির্ভূত ঋণ ও বিনিয়োগের চাপ দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিস্তা সোলার প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ, ২০০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ এবং বেক্সিমকো গ্রুপের জন্য জামানতবিহীন শতকোটি টাকার ঋণের প্রস্তাব ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তৎকালীন সিইও এসব প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
মারধর ও পদত্যাগে বাধ্য করা
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বিআইএফএফএলের পর্ষদ সভায় ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ফরমানুল ইসলামের ওপর চড়াও হন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, কলার ধরে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়। এছাড়া তার দাপ্তরিক সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেওয়া এবং দুদকের মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফরমানুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ রানা ৬ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রধান আসামি আব্দুর রউফ তালুকদারসহ তিনজন এখনো পলাতক রয়েছেন। অন্য দুই অভিযুক্ত বর্তমানে জামিনে থাকলেও কারাবন্দী সালমান এফ রহমানকে সোমবার এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো।