যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ক্লাউডভিত্তিক সফটওয়্যার কোম্পানি সেলসফোর্স তাদের নতুন প্রতিবেদন ‘এজেন্টিক এন্টারপ্রাইজ ইনডেক্স ২০২৬’-এ জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের ব্যবহারের হার তিন গুণ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো এখন প্রথাগত পরীক্ষার বাইরে গিয়ে বড় পরিসরে এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় এআই এজেন্টের গড় সংখ্যা ৫টি থেকে বেড়ে ১৩টিতে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে একটি এআই এজেন্ট তৈরির সময়ও ৫৩ শতাংশ কমেছে, যা এখন গড়ে ১ দশমিক ৯ দিনে নেমে এসেছে।
এআই এজেন্টের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা
সেলসফোর্সের তথ্যে দেখা যায়, এআই এজেন্টগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছে এবং জটিল কাজগুলো অনায়াসেই সম্পন্ন করতে পারছে। গত বছরের তুলনায় এআই এজেন্টগুলোর কর্মক্ষমতা ৩৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এগুলো শুধু টেক্সট তৈরির কাজে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিভিন্ন সিস্টেমে সমন্বয় সাধন ও মাল্টি-স্টেপ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো জটিল দায়িত্ব পালন করছে।
কর্মক্ষেত্রে এআই এজেন্টের প্রতি কর্মীদের আস্থাও বেড়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সাপ্তাহিক এআই সেশনের সংখ্যা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, গ্রাহক সেবা ও খুচরা ব্যবসার মতো ক্ষেত্রগুলোতে এআই এজেন্টের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ গ্রাহক সেবা স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
ব্যবসায়িক মুনাফায় প্রভাব
এআই এজেন্টের এই ব্যাপক প্রসারের ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান মুনাফা বা আরওআই (ROI) নিশ্চিত হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এআই এজেন্টের উপস্থিতি বিক্রির পরিমাণ চার গুণ পর্যন্ত বাড়াতে সাহায্য করেছে। এছাড়া গ্রাহকদের সন্তুষ্টির হারও আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে, যেখানে ৭৭ শতাংশ গ্রাহক এআই এজেন্টের সাথে যোগাযোগের পর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, নিয়ন্ত্রিত শিল্পগুলোতে যেখানে এআই ব্যবহার কিছুটা ধীর ছিল, সেখানেও এখন অত্যাধুনিক ও জটিল এআই এজেন্ট স্থাপনের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে বা ব্যস্ত সময়ে ব্যবসার চাহিদা মেটাতে এই প্রযুক্তি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।