ঢাকাTuesday , 18 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

শূন্যস্থান কি সত্যিই শূন্য? ৯ দশকের পুরোনো রহস্যের সমাধান মিলল মহাকাশে


August 18, 2026 7:15 pm
Link Copied!

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির গবেষকরা মহাকাশে এমন এক ঘটনার সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে তথাকথিত ‘শূন্য’ স্থান আসলে পুরোপুরি শূন্য নয়। গবেষক ড. মার্কাস লোয়ার এবং তার আন্তর্জাতিক দল একটি ম্যাগনেটার বা অতি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রবিশিষ্ট নিউট্রন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের এক অদ্ভুত ধারণার সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছেন।

প্রায় ৯০ বছর আগে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ভের্নার হাইজেনবার্গ ধারণা দিয়েছিলেন যে, একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্যাকুয়াম বা শূন্যস্থানেও ‘ভার্চুয়াল কণা’ থাকে, যা ক্ষণস্থায়ীভাবে তৈরি হয় এবং অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ভার্চুয়াল কণাগুলো আলোর চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ভ্যাকিউম বাইরিফ্রিঞ্জেন্স’ বলা হয়।

গবেষকরা নাসা’র ইমেজিং এক্স-রে পোলারিমেট্রি এক্সপ্লোরার (IXPE) ব্যবহার করে ‘1E 1547.0-5408’ নামক একটি ম্যাগনেটারের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। পৃথিবী থেকে লব্ধ যেকোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের চেয়ে ১০ কোটি গুণ বেশি শক্তিশালী এই ম্যাগনেটারের চৌম্বক ক্ষেত্রটি আলোকে কীভাবে বাঁকিয়ে দিচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ম্যাগনেটারটির চৌম্বক মেরু এবং ঘূর্ণন অক্ষের বিন্যাস ছিল অত্যন্ত আদর্শ, যা এই সূক্ষ্ম কোয়ান্টাম প্রভাবটি চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছে। এক্স-রে রশ্মির উচ্চ মাত্রার পোলারাইজেশন থেকে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই ম্যাগনেটারের শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ভার্চুয়াল কণাগুলোকে নির্দিষ্ট দিকে বিন্যস্ত করছে, যা আলোর গতিপথে প্রভাব ফেলছে।

ড. মার্কাস লোয়ার জানান, এই আবিষ্কার যদি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়, তবে মহাবিশ্বের চরম অবস্থায় কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের আচরণ কেমন হয় তা বোঝার নতুন পথ খুলে যাবে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল কোয়ান্টাম ভ্যাকুয়ামের রহস্য উদঘাটনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত কম্পিউটার সিমুলেশন এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই তত্ত্বের আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।