যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মার্কিন সফটওয়্যার কোম্পানি প্যালান্টিয়ারের প্রযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে গ্রটার ম্যানচেস্টার ইন্টিগ্রেটেড কেয়ার বোর্ড (আইসিবি)। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) জন্য প্যালান্টিয়ারের সাথে ব্রিটিশ সরকারের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের যে চুক্তি রয়েছে, তা আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাতিলের সুযোগ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ম্যানচেস্টার কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় পর্যায়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এনএইচএস গ্রটার ম্যানচেস্টারের চিফ ডাটা অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স অফিসার ম্যাট হেনেসি দাবি করেছেন, তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম বা এডিএসপি (ADSP) প্যালান্টিয়ারের প্রযুক্তি থেকে অনেক বেশি উন্নত। তাদের মতে, কোনো প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম যত শক্তিশালীই হোক না কেন, চিকিৎসকরা বা রোগীরা যদি সেটিকে বিশ্বাস না করেন, তবে তার কোনো সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। হেনেসি আরও বলেন, প্যালান্টিয়ারের প্রযুক্তি পুরোপুরি গ্রহণ করা তাদের জন্য একটি ভুল পদক্ষেপ হবে।
২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এনএইচএসের বিশৃঙ্খল স্বাস্থ্য তথ্যগুলোকে সুসংগঠিত করতে প্যালান্টিয়ারের ‘ফেডারেটেড ডাটা প্ল্যাটফর্ম’ (এফডিপি) ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সিস্টেম ব্যবহারের ফলে রোগীদের অপেক্ষার সময় কমছে এবং হাসপাতালের কার্যক্রম আরও দক্ষ হচ্ছে।
তবে প্যালান্টিয়ারের প্রযুক্তি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্যালান্টিয়ারের প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচকরা উদ্বিগ্ন। যুক্তরাজ্যের অনেক সংসদ সদস্য মনে করেন, একটি মাত্র বিদেশি কোম্পানির ওপর দেশটির স্বাস্থ্য খাতের এত বড় নির্ভরতা নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গ্রটার ম্যানচেস্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নিজস্ব অ্যানালিটিক্স এবং ডাটা সায়েন্স প্ল্যাটফর্ম গত এক দশক ধরে সফলভাবে কাজ করছে এবং এটি জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছে। এই বোর্ডের অধীনে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সেবা পায়। প্যালান্টিয়ারের পক্ষ থেকে এই দাবির বিরোধিতা করা হলেও, ম্যানচেস্টার কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সরকার এনএইচএসের সঙ্গে প্যালান্টিয়ারের চুক্তিটি নবায়ন করবে নাকি বাতিল করবে, তা নিয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।