রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব দ্বিগুণ হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কীটতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ সর্বশেষ জরিপে রাজশাহীতে এই সূচক পাওয়া গেছে ৬১ দশমিক ৩৩, যা মে মাসে ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। মশার লার্ভা পাওয়া গেছে ফুলদানি, টব, নারকেলের খোসা ও প্লাস্টিকের পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আগস্ট মাসে ধারাবাহিকভাবে রোগী ভর্তি বেড়েছে। গত ১১ আগস্ট সেখানে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চাপ বাড়লেও সুচিকিৎসা প্রদানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২১ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৪৯২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, বর্ষার বাকি সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু কর্নার চালু রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. মাহবুব হাসান।
স্থানীয়রা বলছেন, মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার জানান, ওয়ার্ডগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দারা ফগার মেশিনসহ মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।