যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা অ্যালকোহল আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর পুনরায় মদ্যপানে ঝুঁকে পড়ার কারণ শনাক্ত করতে একটি গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষক ড্যানি জি. উইন্ডার এবং মেরি ডয়েল ও তাদের দল জানিয়েছেন, মদ্যপান ত্যাগের পর মস্তিষ্কের ‘বেড নিউক্লিয়াস অব দ্য স্ট্রাইয়া টার্মিনালিস’ (BNST) নামক অংশে অতিরিক্ত সক্রিয়তা দেখা দেয়, যা মানুষকে পুনরায় আসক্ত করে তুলতে পারে। এই অনুসন্ধান অ্যালকোহল ব্যবহারের ব্যাধি বা ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক হতে পারে।
গবেষণার পটভূমি
দীর্ঘদিন অ্যালকোহল সেবনের পর হঠাৎ তা ছেড়ে দেওয়া বা বিরত থাকার সময় মস্তিষ্কে যে পরিবর্তনগুলো আসে, তা মানুষের মদ্যপানের তীব্র ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয় কি না, তা যাচাই করাই ছিল গবেষকদের লক্ষ্য। গবেষণার অংশ হিসেবে ইঁদুরকে দীর্ঘ সময় অ্যালকোহল দেওয়া হয় এবং এরপর বাধ্যতামূলক বিরতি বা অ্যাবস্টিনেন্সের মধ্যে রাখা হয়। দেখা গেছে, যেসব ইঁদুর বিরতির পর পুনরায় মদ্যপানে ফিরেছে, তাদের মস্তিষ্কের বিএনএসটি অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সক্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এমনকি অ্যালকোহল দেওয়ার আগেই মস্তিষ্কে এই সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অ্যালকোহলের অপব্যবহার। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন। উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৯৯৯ সালের পর থেকে দেশটিতে এই ব্যাধিতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। চিকিৎসকরা আগেভাগে বুঝতে পারেন না যে কোন রোগীটি পুনরায় মদ্যপানের ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষকদের মতে, যদি মানুষের ক্ষেত্রেও বিএনএসটি অঞ্চলের এই সক্রিয়তা নির্ণয় করা যায়, তবে ঝুঁকিপ্রবণ ব্যক্তিদের আগেভাগেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গবেষক দলের সদস্য জেনিফার ব্ল্যাকফোর্ড বর্তমানে যারা অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন, এমন মানুষদের মস্তিষ্কের বিএনএসটি সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি মানুষের মস্তিষ্কেও একই ধরনের সংকেত পাওয়া যায়, তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এই পদ্ধতিকে স্ক্রিনিং টুল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখা হবে। বর্তমানে গবেষকরা মস্তিষ্কের কোন নির্দিষ্ট কোষগুলো এই কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, তা নিয়ে বিস্তারিত কাজ করছেন।