যুক্তরাজ্যের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবৃত্তবিদ্যার জ্যেষ্ঠ প্রভাষক র্যাচেল উডস এক গবেষণায় জানিয়েছেন, শরীরচর্চা বা ব্যায়াম সরাসরি ওজন কমানোর চেয়ে কমানো ওজন ধরে রাখার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের বিপাক ক্ষমতা বৃদ্ধি, চর্বি পোড়ানো এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
সাধারণত ওজন কমানোর জন্য ক্যালোরি গ্রহণ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ব্যায়ামের মাধ্যমে দ্রুত ওজন কমানো কঠিন। শরীরচর্চার ফলে অনেকের ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া ব্যায়ামের পর শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রবণতাও ওজন কমার গতি কমিয়ে দেয়। একে ‘মেটাবলিক অ্যাডাপটেশন’ বা বিপাকীয় অভিযোজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা শরীরের ওজন কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বিপরীতে কাজ করে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ওজন কমানোর পর নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে গেছেন, তারা দীর্ঘ সময় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছেন। ১১০০ জনের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, ওজন কমানোর প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যায়ামের প্রভাব কম থাকলেও, পরবর্তী সময়ে এটি ওজন ধরে রাখতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে।
ব্যায়াম যেভাবে কাজ করে
ওজন কমানোর সময় শরীর চর্বির পাশাপাশি পেশিও হারায়। ব্যায়াম, বিশেষ করে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং পেশির গঠন ঠিক রাখতে ও বিপাক হার বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। দীর্ঘমেয়াদী সুফলের জন্য অ্যারোবিক ব্যায়াম এবং পেশি গঠনের ব্যায়াম উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক সক্রিয়তা কেবল ওজন নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক।