যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম আসন্ন শরৎকালীন বাজেটে কর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইউক্রেন সফররত অবস্থায় তিনি জানিয়েছেন, সরকারি অর্থায়নের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে তিনি অবাস্তব কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন না এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ২৮ অক্টোবর তার সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর বার্নহাম জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি বাস ভাড়া দুই পাউন্ডে সীমাবদ্ধ করা এবং গৃহস্থালি বিদ্যুৎ বিলের ওপর ভ্যাট কমানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে সামাজিক সুরক্ষা সংস্কারের মতো বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ইউক্রেনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, তিনি কোনো ঝুঁকি নিতে চান না এবং জনগণের কর্মসংস্থান বা পারিবারিক আর্থিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত যত্নবান। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল আইডি প্রকল্পের তহবিল পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমেই তিনি বর্তমানের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিতে সক্ষম হয়েছেন।
সরকারি অর্থায়নের ওপর চাপের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে তিনি যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছেন তা যথেষ্ট নয়। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, জুলাই মাসে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঋণ গ্রহণ এবং মুদ্রাস্ফীতি ২ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় সরকারের হাতে খুব বেশি সুযোগ নেই। ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও তেলের দাম বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
চ্যান্সেলর জন হিলিকে সঙ্গে নিয়ে বার্নহাম পূর্ববর্তী সরকারের বেঁধে দেওয়া রাজস্ব নীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি’র প্রধান রেইন নিউটন-স্মিথ জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ কমে আসছে। তাই ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।