যুক্তরাজ্যের রিডিং শহরে গোর্খা পরিবারের সদস্যরা তাদের পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন। গোর্খা ভেটারানদের বিধবা স্ত্রী ইন্দুমাটি থাপা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে পাওয়া পেনশন এবং সুবিধা দিয়ে লন্ডনের মতো শহরে দৈনন্দিন জীবন নির্বাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ১৯৯৭ সালের আগে যেসব গোর্খা ব্রিটিশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন, তাদের পেনশনের হার ব্রিটিশ সেনাদের তুলনায় অনেক কম।
ইন্দুমাটি থাপা জানান, বর্তমানে তিনি যে পেনশন পান তা দিয়ে বাসা ভাড়া, খাবার এবং অন্যান্য বিল মেটানো কঠিন। টিকে থাকার জন্য তাকে মূলত বন্ধু-বান্ধবদের সহায়তা এবং সপ্তাহে প্রায় ১০০ পাউন্ডের ওপর নির্ভর করতে হয়। ৮৭ বছর বয়সী ইন্দুমাটি বর্তমানে স্থানীয় কাউন্সিলর প্রতীকশা গুরুংয়ের সহায়তায় জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রতীকশা জানিয়েছেন, ইন্দুমাটির মতো প্রবীণরা মনে করছেন, ব্রিটিশ সরকার তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করছে না।
স্থানীয় লেবার পার্টির এমপি ম্যাট রোডা প্রবীণ গোর্খাদের এই কষ্টের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকার এবং বর্তমান লেবার সরকারের কাছে তিনি গোর্খাদের পেনশনের অধিকার উন্নত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। তিনি মনে করেন, যারা বহু বছর ধরে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে সেবা করেছেন, তাদের প্রতি দেশের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত।
গোর্খা পরিবারের আরেক সদস্য দেভিসারা রানা জানান, তার স্বামী এবং সন্তান হারানোর পর এখন তার একমাত্র চাওয়া শেষ বয়সে নিজের জন্মভূমি নেপালে ফিরে যাওয়া। কিন্তু পেনশনের স্বল্পতার কারণে তিনি সেই ভ্রমণ খরচ জোগাতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গোর্খাদের অনন্য সেবাকে সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখে। গোর্খা ভেটারান ও তাদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নেপাল ও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।