স্পেন ও পর্তুগালের শিল্পকারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি এড়াতে এবং নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে বড় আকারের ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আইবেরিয়ান উপদ্বীপে হওয়া ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যাকআপ পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্পেনের আরাগন প্রদেশের মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রিবিনের প্রযুক্তি পরিচালক আন্দ্রেস আলতাবাস জানান, গত বছরের ওই আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে তাদের উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাংস নষ্ট হয়েছিল। এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল কয়েক লাখ ইউরো। এরপরই কোম্পানিটি প্রায় ১৫ লাখ ইউরো ব্যয়ে দুটি ব্যাটারি ব্যাকআপ ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফান্ড দ্বারা আংশিক অর্থায়ন করা হয়েছে।
শিল্প খাতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্বন নিঃসরণ কমালেও, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে তারা আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে পড়েছে। পর্তুগালের সেলফ এনার্জি-র প্রতিষ্ঠাতা মিগুয়েল মাতিয়াস জানান, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ছেদ এড়াতে শিল্প খাত এখন স্টোরেজ সিস্টেমের দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, কয়েক মিনিটের ব্যাকআপও অনেক সময় ভারী যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগও এই বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ক্রিস্টিন ঝড়ের ফলে পর্তুগালের হাজার হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন ছিল অঞ্চলগুলো। এর ফলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিজস্ব ব্যাকআপ তৈরির তাগিদ আরও বেড়েছে।
রেড ইলেক্ট্রিকার তথ্য অনুযায়ী, স্পেনে গত এপ্রিল থেকে ব্যাটারি স্টোরেজ ক্ষমতা প্রায় সাতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে ১৩৩টি শক্তি সঞ্চয় প্রকল্পে প্রায় ৮২৭ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। ব্যাটারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সানগ্রোর আলবার্তো বোদেগাস জানান, বর্তমান গ্রাহকরা কেবল ব্যাকআপ নয়, বরং বিদ্যুৎ বিভ্রাটহীন স্বয়ংক্রিয় পরিবর্তনের মতো উন্নত প্রযুক্তিও খুঁজছেন।
পর্তুগালের পোরসেলিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিস্তা আলেগ্রে তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাটারি সিস্টেম যুক্ত করেছে। একইভাবে প্রিমাস সিরামিকস তাদের কারখানায় ব্যাটারি সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। নিজস্ব সৌর প্যানেল থেকে শক্তি সঞ্চয়ের পাশাপাশি এই ব্যবস্থা তাদের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।